bangla premer uponnash romantic । ভুল স্টেশনে নেমে

 
bangla_premer_uponnash_romantic_।_ভুল_স্টেশনে_নেমে

ভুল স্টেশনে নেমে 

সমীরণ সরকার

ধারাবাহিক উপন্যাস ৩১ তম কিস্তি


নন্দিনীর থাকার ঘরটা  সাদামাটা হলেও বাথরুমটা কিন্তু ঠিক তার বিপরীত। বেশ বড়সড় এবং ঝকঝকে।সজ্জা ও আধুনিক মানের ।শাওয়ার, গিজার,ঝকঝকে বেসিন ইত্যাদি যা যা থাকে আধুনিক বাথরুমে, সব আছে সেখানে।শাওয়ার খুলে তার নিচে মাথা পেতে দাঁড়ায় পলাশ। হাজারো প্রশ্ন কিলবিল করছে মাথায়।

                আশ্রম মাতার কাছ থেকে ডাক আসায় নন্দিনী যেভাবে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল ,তাতে বেশ বোঝা যায় যে ,আশ্রম মাতা বেশ প্রভাবশালী এবং নন্দিনী তাকে ভয় পায় ।কে এই আশ্রম মাতা? রাধামাধব মন্দিরের চৌহদ্দি থেকে বেরিয়ে এখানে আসার আগে  দুটো লোক তাকে  'হাওয়া মহলে' নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। ওরা কোন এক 'মাতাজির' কথা উল্লেখ করেছিল । তাকে যে ওরা ভয় পায় এটা ওদের কথাবার্তা এবং     বডি ল্যাঙ্গুয়েজই পরিষ্কার হয়ে গেছিল ।ওই 'মাতাজি' আর 'আশ্রম মাতা' কি অভিন্ন ?'হাওয়া মহলে' তাকে যেতে না দিয়ে এখানে নন্দিনীর নিজের থাকার ঘরে তাকে এনে তোলার জন্যই কি 'আশ্রম মাতা' নন্দিনীকে ডেকে পাঠালেন ?নন্দিনী কি কোন বড়োসড়ো বিপদের সম্মুখীন হতে চলেছে? কি করবে এখন পলাশ ?সে কি এখান থেকে চলে যাবে? কিন্তু নন্দিনীকে এখানে বিপদের মধ্যে   রেখে  সে যায় কি করে ?তাছাড়া এখান থেকে বেরোতে গেলে তো মেন গেট খোলার সেই  ছোট্ট যন্ত্রটা চাই।  ওটা তো নন্দিনীর কাছে আছে  । তাছাড়া এই আশ্রমের সমস্ত রহস্য না জেনে সে এখান থেকে যায় কি করে ।কি হয় এই আশ্রমে? এত গোপনীয়তা কেন? কেনই বা এত পাহারাদারের কড়াকড়ি ?কি হয় 'হাওয়া মহল' এ ?নন্দিনীর মা আর বিশু মামা কোথায়? ওদের জন্যই কি কোনো বাধ্যবাধকতায় আছে নন্দিনী?
                              অন্যমনস্কতার জন্য পলাশের জামা প্যান্ট টা সামান্য ভিজে যায় ।ভাগ্যিস ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য আর এক সেট জামা প্যান্ট নিয়ে এসেছিল পলাশ। তা না হলে তো সমস্যা হয়ে যেত । তাড়াতাড়ি পোশাক পাল্টে নেয় পলাশ ।।ভিজে যাওয়া জামা প্যান্টটা কোথায় মেলবে বুঝতে পারছিল না। এদিক ওদিক তাকিয়ে শেষে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে তার উপরে মেলে ফ্যানের নিচে রেখে দেয়।                                       
              প্রচন্ড খিদে পেয়েছে পলাশের। টেবিলের উপরে নন্দিনীর রেখে যাওয়া খাবারের ঢাকনা খুলে পলাশ দেখে, কয়েকটা হাতে গড়া রুটি অল্প সবজি আর একটা পাকা কলা আছে। ।চটপট খেতে শুরু করে পলাশ ।আগে পেটটাতো ভরানো যাক। তারপর চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।তাছাড়া এখানে কিছু করতে গেলে নন্দিনীর সাহায্য একান্ত প্রয়োজন। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই ঘরে ঢোকে নন্দিনী দ্রুত পায়ে। নন্দিনীর মুখ থমথমে। যেন একটা লড়াই শেষ করে ফিরল ও।
           পলাশ উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে, কিরে, কিছু হয়েছে তোর ?'আশ্রম মাতা' কি বলল তোকে ?
--------না, তেমন কিছু না ।খুব ভালো হয়েছে যে তুমি খেতে শুরু করেছ ।আমি ভাবছিলাম, হয়তো বা স্নান করে আবার ঘুমিয়ে পড়েছ তুমি।
---- কেন বারে বারে ঘুমাবো কেন আমি? তখন  শরীরটা একটু .............!
-----আসলে কাল সারারাত তোমার উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে তো, তাই ভাবছিলাম।
------ছাড় ওসব কথা। তোর সঙ্গে অনেক আলোচনা আছে আমার।
--------- আমারও আছে    আগে ধীরেসুস্থে খাওয়া সেরে নাও, তারপর কথা বলবো ।বাথরুমের দরজা খোলে নন্দিনী।

(চলবে)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন