বাংলা কবিতার আসর / bangla kobitar asor






বাংলা_কবিতার_আসর/bangla_kobitar_asor


পোড়ে বিচিত্র মেঘ 

বিকাশরঞ্জন  হালদার 


উদাসিনীর ঝাঁকড়া  চুলে  থেমে থাকে তারা 
হয়তো তখন অন্য কোনো অন্য শব্দমালায় 

কাছে আসে একাকিনী অনিশ আঁধার 
নিভন্ত মুখে  বিপুল গাছ  অহরহ আলো 

এবং কাছাকাছি দিয়ে পদ্য আঁকে মন 
মোহিনী বাতাস ডুবে মরে  সাঁতার  ভুলে যায় 

প্রত্যেকটি  ভেঙে পড়ায়  পোড়ে বিচিত্র মেঘ 
অথচ-কে ঘিরে ধরে ঝোপের আর্তনাদ 

দিনান্ত অস্ত গেলেও লিপি ইচ্ছেরা  জাগে 
বিরল ভাটায় উঠে দাঁড়ায় দাঁড়ের  চিৎকার !


বাংলা_কবিতার_আসর/bangla_kobitar_asor


লিকার চা

 সনৎ মন্ডল


প্রতিটা বিকেলের মধ্যেই 
ডুবে যায় বিষন্ন রঙের  আলো,
মগজে অন্ধকার নিয়ে ফিরে আসে মন খারাপ !

দুটো খালি চেয়ার,
পাশাপাশি দীর্ঘশ্বাস ফেলছে বহুদিন থেকেই,,,

মাকে দেখি, প্রতিদিনই দেখি, সন্ধ্যাবেলায় 
দু কাপ লিকার চায়ে আঙ্গুল ডুবিয়ে বসে থাকে,,

বাবার হয়তো ফিরে আসার কথা ছিল,,,,

আসলে বাবা কখনও ঠান্ডা চা খেতে চাইতো না,,,
তাই মা গরম চায়ে মধ্যে আঙুল ডুবিয়ে আজও বসে থাকে,,,,



বাংলা_কবিতার_আসর/bangla_kobitar_asor


অনেক কথাই মনে পড়ে

     রঞ্জন চক্রবর্ত্তী

 

দিনের হাত ধরে রোদ বাড়লে ছায়া ক্রমে দীর্ঘ হয়

ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপলে জায়মান সময়কে ধরা যায়,
দেওয়াল টপকালেই ওপারে সব পেয়েছির দেশ
মাঝ-বরাবর বিভাজনের স্পষ্ট সীমারেখা টানা,
ইঁটের পর ইঁট সাজিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করছো
সময় পেরিয়ে গেলে বুঝে নিও দূরত্বের সঠিক পরিমাপ,
জাগতিক বাধা সরিয়ে সময়কে ছুঁতে পারার তাগিদে

কিছু নিজস্ব শব্দ আলগোছে বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়া
তারপর পা টিপে টিপে পৌঁছে যাওয়া শব্দের ভেতরে,
সন্ধ্যা ভাবেনি আজ এত তাড়াতাড়ি বিকেল গড়াবে
শিল্পী ভাবেনি কোন রূপের আদলে গড়েছে মানসপ্রতিমা

তার চোখের নীরব দৃষ্টিতে তবুও লেগে আছে মায়া,
নাগরিক কোলাহলে তখন ক্রমাগত জৌলুস হারাচ্ছে রং
প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী চায় একটু স্পেস খুঁজে নিতে
মনের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে চায় কিছু গোপন সুখের অনুভূতি,
ফেলে আসা সেই সব দিনের অনেক কথাই মনে পড়ে
টুকরো টুকরো স্মৃতি সামনে মেলে ধরে চেনা কিছু মুহূর্ত,
রাতের অন্ধকার ভেঙে তখন প্রবল শীতের আভাস

বাংলা_কবিতার_আসর/bangla_kobitar_asor


জন্ম-সুন্দরী

সৌমেন দেবনাথ


ও চোখে কাজল দিও না
দেখবো চোখের মায়া,
কাজলে কী আর রূপ বাড়ে
ঢাকা পড়ে হায়া।

ঠোঁটে তুমি রং লেপো না
ঠোঁট হয় ভীষণ বিশ্রী,
মানুষ বাজে বলে আড়ে
এমনিতেই ঠোঁট সুশ্রী।

ভুরু প্লাগ করো না তুমি
সৌন্দর্য যায় ছুটে,
ভুরু-জোড়া কতই সুন্দর
হৃদয় নেয় যে লুটে।

কপালে দাও বড় এক টিপ
কপালটা হোক আলোক, 
ছোট্ট টিপ দিও না তুমি
রাস্তা ভুলবে চালক।

মাথার কেশে দিও না রং
উড়ুক আপন ছন্দে,
কেশপুঞ্জ কেটো না তুমি 
ভাসবো চুলের গন্ধে।

নড়ুক নড়ুক কথার সাথে
তোমার নাকের ঐ ফুল,
নাকের ফুলে চেয়ে চেয়ে 
থাকবো হয়ে আকুল।

মুখে দিও না স্নো-পাউডার
সেজো না চুপ-চুপি,
শুধু দেবে জলের ছিটা
তাতেই তুমি রূপী।

জন্ম-সুন্দরী সাজে না
তুমি রূপের রাণী,
তোমার সৌন্দর্য হারায় না
হেরে যাবে বাণী।


যশোর, বাংলাদেশ। 

 


Attachments area

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন